প্রতিবেদন

কোম্পানীগঞ্জের উড়িরচর ও চরবালুয়া জলদস্যুদের নিরাপদ আস্তানা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরএলাহী ইউনিয়নের চরবালুয়া এলাকায় জলদস্যুরা নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলেছে। জলদস্যু বাহিনীর লোকরা নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলে প্রতিনিয়ত ডাকাতি, লুটপাট, অপহরণ, ধর্ষণ ও মানুষ হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়ে লাশ গুম করাসহ বর্বোরচিত অপরাধ নির্বিঘে চালিয়ে যাচ্ছে। জলদস্যু বাহিনীর ভয়ে চরবালুয়া ও উড়িরচর এলাকার ৫ শতাধিক লোক আতংকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। যাতায়াতের অব্যবস্থাপনার কারণে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনের লোকজন ও জনপ্রতিনিধি চরবালুয়া গ্রামে না যাওয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন এই এলাকায় রাষ্ট্রীয় আইনের কোন প্রভাব নেই। অপরাধীরা এককভাবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। উড়িরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়েরুল আলমের ছেলে মাকসুদ আলম খোকা জানান, হাতিয়ার জলদস্যু নিজাম বাহিনীর লোকরা চরবালুয়া ও উড়িরচর গ্রাম পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করছে। জলদস্যু বাহিনীর লোকরা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে দলবদ্ধভাবে মহড়া দেয়। তাদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্রের মজুদ রয়েছে। জলদস্যু নিজাম বাহিনীর লোকরা নদীতে ডাবল ইঞ্জিন ট্রলার ব্যবহার করে লুটপাট চালায়। নিজাম ডাকাতের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হচ্ছে উড়িরচরের জাহাঙ্গীর। উড়িরচর ও চরবালুয়া বিশাল এলাকায় জাহাঙ্গীর পাঁচ জনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে। বেছু বেপারী কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি একরে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে। ইব্রাহিম মাঝি বাংলা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করে। আবু তাহের জনতাবাজার থেকে মাসোহারা আদায় করে। মোস্তফা সর্দার নামারবাজার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করে। সামছুল আলম মিয়াবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করে। আগস্ট মাস থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বড় ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। ১৩ আগস্ট উড়িরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ানকে নিজাম ডাকাত অপহরণ করে জাহাজ্জারচর এলাকায় নিয়ে যায়। তিনদিন তাকে জাহাজ্জারচর এলাকায় নিয়ে জিম্মি করে রাখে। পরে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়ার পর তিনদিন পর তার চোখ বেঁধে ট্রলারযোগে উড়িরচর এলাকায় সন্দ্বীপ চ্যানেলের কাছে নিয়ে ছেড়ে দেয়। এরপর খামার মালিক আবুল বাশারকে অপহরণের হুমকি দিলে সে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে রেহাই পায়। নেতা মফিজের গরু, মহিষ ও ভেড়া লুট করে নিয়ে গেলে ২ লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে এগুলো উদ্ধার করা হয়। উড়িরচর ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ানের ৬০টি ভেড়া লুট করে নিয়ে গেলে সে প্রাণভয়ে সন্দ্বীপ এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। জলদস্যুরা স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাকের কাছ থেকে ৫০ হাজার, পারভেজের কাছ থেকে ৫০ হাজার, এয়াকুব সওদাগরের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। জীবন মাঝির তিনটি ট্রলার, মোশাররফ মাঝির একটি ট্রলার, গোফরান হুজুরের একটি ট্রলার, জাল ও মাছসহ লুট করে নিয়ে যায়। এখন ভরা আমন মৌসুম। কৃষকরা তাদের গরু, মহিষ বন বিভাগের বাগানে নিয়ে ছেড়ে দেয়। নিজাম ডাকাত গরু ও মহিষ মালিকদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করে। প্রতিটি মহিষের জন্য ২৫০ টাকা, প্রতিটি গরু ১৫০ টাকা এবং প্রতিটি ভেড়া থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করে। জলদস্যু বাহিনীকে মাসিক চাঁদা দেয়ার পরও স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের নিরাপদ মনে করেন না। নিজাম ডাকাত বাহিনীর ভয়ে উড়িরচর ও চরবালুয়া এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক লোক নিরাপত্তাহীন হয়ে অন্য এলাকায় চলে গেছেন।

-মোঃ জাফর উল্যাহ
 
     
lbheading